মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হোয়াইট হাউসে আলোচনায় এসেছেন ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্প। ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা, অতীতে প্রেসিডেন্টের প্রতি লেখা চিঠি এবং হোয়াইট হাউসে তার ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প একসময় তাঁর স্টাফদের জানিয়েছিলেন, নাটালি তাঁকে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও সন্তানদের মতোই ভালোবাসেন। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, অন্যরা একসময় চলে গেলেও নাটালি তাঁকে ছেড়ে যাবেন না।
নাটালিকে ঘিরে আলোচনা নতুন করে শুরু হয় গত ১৬ আগস্ট। ওই দিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর জন অসফ এক জনসভায় ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট বলরুম নির্মাণের পাশাপাশি নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল বিমানে ভ্রমণ করতে চান। এ মন্তব্যের পর ট্রাম্পের সমর্থক ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন নাটালি হার্প। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি আইনের কারণে তিনি হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় নাটালি ট্রাম্পের সঙ্গে একটি পোর্টেবল প্রিন্টার নিয়ে ঘুরতেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পকে সংবাদপত্রের খবর তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করে দিতেন তিনি। এ কারণে তাঁর ডাকনাম হয়ে যায় ‘দ্য হিউম্যান প্রিন্টার’।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর নাটালি তাঁর নির্বাহী সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের খসড়া তৈরি থেকে শুরু করে ওভাল অফিসের বিভিন্ন কাজেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়।
সম্প্রতি ট্রাম্পকে লেখা নাটালির কয়েকটি চিঠির বিষয়ও প্রকাশ্যে এসেছে। এর একটিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে আপনিই সব।’
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা রিজিম চেঞ্জ বইয়ে প্রথম এসব চিঠির কথা উঠে আসে। গত জুনে প্রকাশিত বইটির তথ্যমতে, ট্রাম্প কর্মীদের বলেছিলেন, নাটালি হার্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মেলানিয়ার মতো তাঁকে ভালোবাসেন।
নাটালির ভূমিকা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠেছে। ‘এমএস নাও’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসের আবাসিক এলাকা ও ওয়েস্ট উইংয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বা ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়াই কাজ করেছেন। পরে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তিনি সম্প্রতি নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আগের আবাসস্থল, আর্থিক ইতিহাস ও বিদেশি যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রেসিডেন্টের এত কাছাকাছি কাজ করায় নাটালি এমন সংবেদনশীল তথ্য ও নথিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা হোয়াইট হাউসের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি।
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট দাবি করেছেন, নাটালি হার্পের অন্যদের মতোই নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে। তিনি নাটালিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন অনুগত ও পরিশ্রমী সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করে থাকতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফর’-এর এক সূত্র গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জানিয়েছে, মেলানিয়া এ ধরনের বিষয় পছন্দ করেন না।
অন্যদিকে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাটালির ভাই প্রেস্টন হার্প তাঁর বোনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ককে ‘এক ধরনের অসুস্থ আসক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁর বোন এর আগেও অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের চিঠি লিখেছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর বোনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
