নেতৃত্ব হারিয়ে পুনর্গঠন, গেরিলা কৌশলে জোর; ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধে নতুনভাবে প্রস্তুত হচ্ছে ইরানপন্থী সংগঠনটি
লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ হারিয়েছিল। তখন সংগঠনটির টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে হিজবুল্লাহ এখন নতুন কাঠামোয় নিজেদের সংগঠিত করছে। আগের মতো বড় ও কেন্দ্রীভূত সামরিক কাঠামোর বদলে ছোট ছোট স্বতন্ত্র ইউনিট, গেরিলা কৌশল এবং ড্রোননির্ভর যুদ্ধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত সাতজন ব্যক্তি এবং সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সূত্র, লেবাননের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও কয়েকজন আরব কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তাঁদের অধিকাংশই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ভয়াবহ আঘাতের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হিজবুল্লাহ সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সংকট এবং শিয়া সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বৈরুতের সদর দপ্তরে টানা প্রায় ৮০টি বোমা হামলা চালায়। এতে কার্যালয়টি ধ্বংস হয় এবং সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের অনেকে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ।
ধারণা করা হয়, ইসরায়েল তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। মাটির প্রায় ৬০ ফুট নিচে অবস্থান করেও নাসরুল্লাহ নিরাপদ থাকতে পারেননি।
এর আগেই হিজবুল্লাহর কমান্ডারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে ইসরায়েল তাদের মুঠোফোনে আড়ি পাতছে। তাঁদের কথাবার্তা ও চলাফেরার তথ্যও ইসরায়েলের হাতে চলে যাচ্ছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছিলেন। এর পাশাপাশি হাজারো পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরক স্থাপনের ঘটনাও সংগঠনটির নিরাপত্তাব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা প্রকাশ করে।
এ অবস্থায় বেঁচে যাওয়া কমান্ডাররা মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন। তাঁরা মোটরসাইকেল ও স্কুটারে চলাচল শুরু করেন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের হারেত হরেইক, শিয়াহসহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। এসব এলাকা সম্মিলিতভাবে ‘দাহিয়েহ’ নামে পরিচিত।
কমান্ডারদের কাছে তখন স্পষ্ট হয়ে যায়, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। ফলে বেকারি, ব্যাংকের শাখা কিংবা মুঠোফোনের দোকান—বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি দেখা করে তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে শুরু করেন।
সামনাসামনি বৈঠকের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, সংগঠনটিকে বিপর্যয় কাটিয়ে পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা করা। দ্বিতীয়ত, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া।
এভাবেই ধ্বংসের মুখ থেকে হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরে এমন অনেক যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা মনে করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলায় যোগ দেওয়া ছিল বড় ভুল। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত সরাসরি হাসান নাসরুল্লাহ নিয়েছিলেন। এমনকি হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদ শুরা কাউন্সিলের মধ্যেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ ছিল।
চলতি আগস্টের শুরুতে ইসরায়েলের আর্মি রেডিও এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর ধরে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে বলে দাবি করা কিছু নথির উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে সমন্বিত ও আকস্মিক হামলায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সীমান্ত ও সম্পদ বিভাগের প্রধান এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাওয়াফ মুসাওয়ি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এসবই কেবল প্রচার। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা হিজবুল্লাহর কয়েকজন যোদ্ধার মতে, ইসরায়েলি প্রতিবেদনে কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে।
ইরান ও তার নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোট দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মধ্যে রাখার একটি কৌশল অনুসরণ করে আসছে। এই কৌশলের নাম ‘ইউনিটি অব ফ্রন্টস’।
এই জোটে কয়েকটি রাষ্ট্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করা।
এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। দুজনই এখন মৃত।
নাসরুল্লাহ তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, সামরিক সাফল্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। আর কাসেম সোলাইমানি ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান।
সোলাইমানি ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড তদারক করতেন এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি নির্দেশ দিতেন। ইরাকের শিয়া আধাসামরিক বাহিনী ও ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
একটি সূত্র ২০১২ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানায়, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরানের মিত্র বাশার আল-আসাদের সরকারকে সহায়তা করার জন্য হিজবুল্লাহকে সিরিয়ায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন সোলাইমানি।
ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোলাইমানির প্রস্তাবের জবাবে নাসরুল্লাহ বলেছিলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। আমাদের সিরিয়ায় যাওয়া উচিত। তবে আমাদের আরও আগেই যাওয়া উচিত ছিল।’
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এতে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোট তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নেতৃত্ব হারায়। এরপর ‘ইউনিটি অব ফ্রন্টস’ কৌশলও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
হিজবুল্লাহর অন্তত তিনটি সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতির কারণেই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস এককভাবে ইসরায়েলে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
হামলার পর ইরানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দোল্লাহিয়ান বৈরুতে গিয়ে নাসরুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। ওই বৈঠকে তিনি নাসরুল্লাহকে জানান, গাজা যুদ্ধে তেহরান নৈতিক সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
ইরানের নেতাদের মতো নাসরুল্লাহও আশঙ্কা করছিলেন, বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ফলে তিনি সীমিতভাবে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েলের দিকে সীমিত রকেট হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সময় গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছিল।
তবে নাসরুল্লাহর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাদওয়ান ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের প্রধান ইব্রাহিম আকিল অন্যতম। তাঁদের অবস্থান ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে হলে পূর্ণ শক্তি নিয়েই যেতে হবে; তা সম্ভব না হলে যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।
এরপর প্রায় এক বছর লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। এ সময়ে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, বিমান ও কামান মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার হামলা হয়।
জাতিসংঘ নির্ধারিত ‘ব্লু লাইন’জুড়ে সংঘর্ষ চললেও প্রাণহানি বেশি হয় লেবাননে। দেশটিতে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হন। ইসরায়েলের সীমান্তের দক্ষিণাঞ্চলে নিহত হন ৭০ জন।
তবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনাকে উত্তর সীমান্তে আটকে রাখতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ৬০ হাজার ইসরায়েলি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শুরুর দিকে দুই পক্ষই কিছু অলিখিত সীমারেখা মেনে চলত। হিজবুল্লাহর অবস্থান ছিল, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলা হলে তার জবাব তেল আবিবে দেওয়া হবে।
কিন্তু ২০২৪ সালে ইসরায়েল ধীরে ধীরে সেই সীমা অতিক্রম করতে থাকে। জানুয়ারিতে দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা সালেহ আল-আরুরি নিহত হন।
এর জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের মাউন্ট মেরন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক রকেট হামলা চালায়। হিজবুল্লাহর সূত্রের দাবি, তেল আবিবের পরিবর্তে সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার কারণ ছিল আরুরি লেবাননের নাগরিক না হওয়া।
ছয় মাস পর ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ফুয়াদ শুকুর নিহত হন। তাঁর হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে প্রায় এক হাজার রকেট ছোড়ার পরিকল্পনা করেছিল হিজবুল্লাহ। কিন্তু এর আগেই ইসরায়েল হামলা চালিয়ে সংগঠনটির অধিকাংশ রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করে।
হিজবুল্লাহর অন্তত দুটি সূত্রের দাবি, ইসরায়েল তাদের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আগেই জানতে পেরেছিল। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হিজবুল্লাহর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়।
১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর হাজারো পেজার ও শত শত ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হিজবুল্লাহর যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রথম দিনের ঘটনায় প্রায় ৪০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। পরের দিনের হামলায় আরও অন্তত ২৫ জন নিহত হন।
হিজবুল্লাহর সূত্রগুলোর মতে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াকিটকি। কারণ এগুলো আকারে বড় ছিল এবং বেশি বিস্ফোরক বহন করতে পারত। মাঠপর্যায়ের যোদ্ধারা এগুলো ব্যবহার করতেন। অন্যদিকে পেজার মূলত বার্তা পাঠানো বা সদস্যদের ডাকার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং এর অনেকগুলো অযোদ্ধা কর্মকর্তাদের কাছে ছিল।
সূত্রগুলোর দাবি, ২০২২ সাল থেকে ইসরায়েল-সমর্থিত একটি কোম্পানি ত্রুটিযুক্ত পেজার হিজবুল্লাহর কাছে সরবরাহ করতে শুরু করে। হামলার সময় প্রায় ২ হাজার ৫০০টি এমন পেজার ছিল।
ওয়াকিটকি সরবরাহের ঘটনাটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে চলেছিল। সূত্রের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর হামলার সময় প্রায় ১৫ হাজার ওয়াকিটকি গুদামে ছিল। সেগুলোর অধিকাংশ তখন বন্ধ অবস্থায় ছিল।
মোসাদের এক সাবেক এজেন্ট আগে দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলের একটি গোপন ছদ্মবেশী কোম্পানি হিজবুল্লাহকে প্রায় ১৬ হাজার ওয়াকিটকি সরবরাহ করেছিল।
এরপর প্রায় ৬৬ দিন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তীব্র বিমান ও স্থল অভিযান চালায় ইসরায়েল। একের পর এক হামলায় সংগঠনটির সামরিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়।
হাসান নাসরুল্লাহর পাশাপাশি তাঁর চাচাতো ভাই ও উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হাশেম সাফিউদ্দিনও নিহত হন। রাদওয়ান ফোর্সের প্রধান ইব্রাহিম আকিলসহ সামরিক নেতৃত্বের বহু সদস্যও প্রাণ হারান।
হিজবুল্লাহর ইউনিট ও গোলাবারুদের গুদামের বড় অংশ ধ্বংস করা হয়। তবে যেসব কমান্ডার বেঁচে ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই মুঠোফোন ব্যবহার না করায় ইসরায়েলি নজরদারি এড়াতে সক্ষম হন।
দক্ষিণ লেবাননে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন ইউনিটে লড়াই চালিয়ে যান হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। এতে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ধীর হয়ে যায়। একই সময়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর কতটা ভয়াবহ আঘাত এসেছে, সে সম্পর্কে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক যোদ্ধার ধারণা ছিল না।
হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামো ইরানের আইআরজিসির আদলে তৈরি বলে সংগঠনটির অন্তত দুটি সূত্র জানিয়েছে। এতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন কমান্ডারের সমকক্ষ ইরানি কর্মকর্তা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
হিজবুল্লাহর ইউনিট ও বিভাগের প্রধান এবং উপপ্রধানদের অনেকে নিহত হওয়ার পর ওই কাঠামোর ইরানি কর্মকর্তারা শূন্যতা পূরণে লেবাননে আসেন।
একটি সূত্র জানায়, তাঁদের মধ্যে কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানির উত্তরসূরি ইসমাইল কানি ছিলেন। তবে কুদস ফোর্সের লেবানন শাখার প্রধান আব্বাস নিলফোরুশান হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে হামলার সময় নাসরুল্লাহর সঙ্গে নিহত হন।
হিজবুল্লাহর সূত্রগুলোর মতে, সংগঠনটির টিকে থাকার সক্ষমতা ইসরায়েলকে বিস্মিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিও একটি কারণ ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।
যুদ্ধবিরতির পর অনেকের ধারণা ছিল, হিজবুল্লাহ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউ কেউ মনে করছিলেন, সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, এমনকি তারও নিচে।
কিন্তু সংগঠনটি তখন নতুন সামরিক কাঠামো তৈরির কাজ করছিল।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিটকে অপেক্ষাকৃত স্বতন্ত্র করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও যাতে একটি ইউনিট নিজে থেকে অভিযান চালাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে প্রয়াত হিজবুল্লাহ কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়াহর গেরিলা যুদ্ধকৌশল অনুসরণ করা হয়েছে। ইউনিটগুলোকে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো—গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থান ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন হলে যোদ্ধারা অবস্থান ছেড়ে পিছু হটতে পারবেন।
ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করলেও হিজবুল্লাহ আগের মতো সেসব স্থাপনা দখল বা বড় যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার বদলে ছোট ইউনিটের মাধ্যমে আঘাত করার কৌশল নিয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে নতুন কৌশলের বড় পরীক্ষা হয়। ইসরায়েলি সেনারা লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং এর বাইরের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ৩০০টি অবস্থান তৈরি করে।
আগের যুদ্ধে বিনতে জুবাইলের মতো শহরগুলোতে তীব্র লড়াই হলেও এবার হিজবুল্লাহ সেসব এলাকা ছেড়ে দেওয়ার কৌশল নেয়।
তবু ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপদ থাকতে পারেনি। ২ মার্চের পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা হয়। লক্ষ্যভিত্তিক এসব হামলায় প্রায় ২০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহ এখন ড্রোনের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভর করছে। সংগঠনটির লক্ষ্য, ইসরায়েল যেন সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সামরিক অবস্থান গড়ে তুলতে না পারে।
২০২৬ সালের যুদ্ধে ফাইবার-অপটিক কেব্লের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এফপিভি বা ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ ড্রোন ব্যবহার করছে হিজবুল্লাহ। এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ।
ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুর কাছে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এবং পুরো হামলার ভিডিও ধারণ করতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বল্পমূল্যের কিন্তু প্রাণঘাতী এসব ড্রোনকে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হিজবুল্লাহর ড্রোনচালকদের একটি অংশ লেবাননের গেমারদের মধ্য থেকে এসেছে বলে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ অন্তত দুটি সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভিডিও গেমের জনপ্রিয়তা এবং গেমিংয়ের মাধ্যমে তৈরি দক্ষতা এখন যুদ্ধক্ষেত্রেও কাজে লাগছে।
২০২৪ সালের যুদ্ধেও হিজবুল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। তবে এরপর ড্রোনের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ফলে ইসরায়েলের মারকাভা ট্যাংকের জন্য এগুলো আরও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
হিজবুল্লাহর কাছে আগে থেকেই ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তির কিছু সরঞ্জাম ছিল। ২০২৪ সালের যুদ্ধে সংগঠনটি প্রথমবারের মতো আলমাস-১ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এটি আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং এতে টেলিভিশন ও তাপচিত্রভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলের স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা বিশ্লেষণ করে আলমাস-১ তৈরি করা হয়েছে।
তবে এর ফাইবার-অপটিক কেব্লের দৈর্ঘ্য ছিল ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে হামলার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সীমিত ছিল।
চলতি বছরের বেশির ভাগ সংঘর্ষ লেবাননের ভূখণ্ডে হওয়ায় এই সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে ওঠেনি। আলমাস ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য মজুত করা বিপুল ফাইবার-অপটিক কেব্লের একটি অংশ পরে এফপিভি ড্রোন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
২০২৬ সালের আগস্টে এসে হিজবুল্লাহ সামরিকভাবে আগের অবস্থানে নেই—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। সংগঠনটি বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ছোট ইউনিট ও গেরিলা কৌশলের মাধ্যমে তারা কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ দুটি যুদ্ধে হিজবুল্লাহর কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই। সংগঠনটির সূত্রগুলোর অনুমান, নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে হতে পারে। তাঁদের অধিকাংশই ২০২৪ সালের যুদ্ধে নিহত হন।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষায়, ২০২৩ সালের হিজবুল্লাহ আর এখনকার হিজবুল্লাহ এক নয়।
একসময় সংগঠনটির বিশাল রকেট ভান্ডার ছিল এবং সীমান্তজুড়ে শক্তিশালী অবস্থান ছিল। আরব বিশ্বের বিভিন্ন অংশ এমনকি আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত সরবরাহ ও সহযোগিতার নেটওয়ার্কও ছিল তাদের।
এখন গ্যালিলি অঞ্চলে প্রবেশের মতো পুরোনো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেই। হিজবুল্লাহর একটি সূত্রের ভাষায়, বর্তমান লক্ষ্য জেরুজালেম নয়; বরং লেবাননকে রক্ষা করা।
হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর নাঈম কাসেমকে হিজবুল্লাহর মহাসচিব করা হলে শুরুতে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নাসরুল্লাহর মতো ব্যক্তিগত ক্যারিশমা তাঁর নেই। হাশেম সাফিউদ্দিনের মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বও ছিল না।
তবু কঠিন সময়ে সংগঠনটিকে ধরে রাখার পাশাপাশি নাঈম কাসেম বড় ধরনের পুনর্গঠন করেন। নিজের নেতৃত্বের ধরন অনুযায়ী সংগঠন সাজান এবং প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে পেছনের সারিতে সরিয়ে দেন।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, নাঈম কাসেম প্রমাণ করেছেন যে তিনি সংগঠনকে ধরে রাখতে এবং ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাওয়াফ মুসাওয়ি বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিরোধ আন্দোলন। আমাদের নেতারা সব সময় নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। তাই প্রত্যেক দায়িত্বশীল নেতার বিকল্প হিসেবে আরেকজনকে প্রস্তুত রাখা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম প্রজন্মের নেতারা নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতারাও নিহত হয়েছেন। তৃতীয় প্রজন্মের অনেক নেতা আর নেই। তবু প্রতিরোধ চলবে।’
নাসরুল্লাহর সময়ের তুলনায় এখন হিজবুল্লাহর মাঠপর্যায়ে ইরানি উপদেষ্টার উপস্থিতি কমেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষায়, এর প্রধান কারণ সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা। সিরিয়া এখন আর আগের মতো ইরানের জন্য উন্মুক্ত নয়। আকাশপথে যোগাযোগও কঠিন হয়ে গেছে।
তবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বয় রয়েছে। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সূত্রটির মত।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ তেহরান ও হিজবুল্লাহর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করে। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যেকোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতায় লেবাননের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে লেবানন রাষ্ট্রের সম্পর্কও এখন কঠিন পর্যায়ে রয়েছে। ২ মার্চ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সংগঠনটির সামরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এতে রাষ্ট্র ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।
২০২৪ সালের ইসরায়েলি হামলার পর হিজবুল্লাহর ভেতরেও সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সশস্ত্র আন্দোলনের পরিবর্তে শুধু রাজনৈতিক দলে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই লেবাননের পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিষ্ঠার সময় হিজবুল্লাহ প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতির বিরোধিতা করলেও সময়ের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনের ভেতরে নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। কীভাবে এটি করা যেতে পারে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হচ্ছে।
তবে যুদ্ধ চলাকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর ভেতরে আবার এমন একটি অংশও রয়েছে, যারা মনে করে সংগঠনের উচিত কোনো ছাড় না দিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া।
ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ লেবাননের সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এতে দেশটিতে আবার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হিজবুল্লাহর নাওয়াফ মুসাওয়ি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, লেবাননে কেউ দখলদারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে থাকা শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে। কারণ, তা হলে লেবানন ধ্বংস হওয়ার আগেই তাদের নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনতে হবে।’
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতাকে অনেকে আত্মসমর্পণের কাছাকাছি বলে মনে করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেছেন।
তবে এই সমঝোতা হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সময় ও সুযোগ করে দিয়েছে—এমন মতও রয়েছে।
বর্তমানে কাগজে-কলমে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর। ১৬ এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। যদিও দুই পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অন্যতম লক্ষ্য, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত থেকে লেবাননকে আলাদা রাখা।
তবে দক্ষিণ লেবাননে স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরবে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্র ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নয়; এটি সাময়িক বিরতি মাত্র।
মিডল ইস্ট আইয়ের ৫ আগস্ট প্রকাশিত মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন সংবাদমাধ্যমটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রকাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি দানিয়েল হিলটন এবং বৈরুতভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক আদম শামসেদ্দিন। প্রতিবেদনটি অনুবাদ করেছেন অনিন্দ্য সাইমুম।
