মেকেলের কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগ, আদ্দিস আবাবার বিরুদ্ধে তিগ্রাই কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক দাবি

মেকেলের কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগ, আদ্দিস আবাবার বিরুদ্ধে তিগ্রাই কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক দাবি

 

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় আবারও বাড়ছে উত্তেজনা। তিগ্রাই অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলের কাছে একটি এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন তিগ্রাই ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিগ্রাই কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেকেলে শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ডান্ডেরা গ্রামের একটি কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে।

তবে হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

হামলায় নিহতের দাবি

তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF), যারা বর্তমানে তিগ্রাই অঞ্চল পরিচালনা করছে, জানিয়েছে হামলায় কেউ আহত হয়নি। তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেনি।

তবে AFP-কে এক স্থানীয় ধর্মযাজক জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, হামলার পর তিনি একজন নিহত যোদ্ধার মরদেহ গাড়িতে করে সরিয়ে নিতে দেখেছেন।

ওই ধর্মযাজকের দাবি, আরও দুজন আহত হয়ে থাকতে পারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের স্থানটি একটি স্কুলের কাছাকাছি কৃষিজমিতে ছিল এবং সেখানে স্থানীয় কৃষকদের গবাদিপশুকে পানি খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত একটি জলাধারও রয়েছে।

 

কে চালিয়েছে হামলা?

তিগ্রাইয়ের কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য সরাসরি ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছে। তবে ইথিওপিয়ার ফেডারেল সেনাবাহিনী এখনও হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফলে হামলাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে এবং এর প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

 

আবার কি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে তিগ্রাই?

হামলার ঘটনাটি ইথিওপিয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিগ্রাই ও আদ্দিস আবাবার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

দুই পক্ষই আঞ্চলিক সীমান্তের দুই পাশে সেনা মোতায়েন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন সংঘাত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগও করছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, কয়েক বছর আগে শেষ হওয়া ভয়াবহ তিগ্রাই যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে ফিরে যেতে পারে।

 

কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছিল ভয়াবহ যুদ্ধ

তিগ্রাই যুদ্ধ ইথিওপিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংঘাত। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছিল।

২০২২ সালের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও TPLF-এর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হয়। ওই সংঘাতের কারণে অন্তত ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

 

ড্রোন হামলার ইতিহাসও রয়েছে

তিগ্রাই সংঘাতের সময় ইথিওপিয়ায় ড্রোন ও বিমান হামলা নিয়ে আগেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। জাতিসংঘের নথিতে ২০২২ সালের সংঘাতের সময় তিগ্রাইয়ে ড্রোন ও বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে বর্তমান হামলার অভিযোগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন করে সেনা মোতায়েন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

সামনে কী হতে পারে?

মেকেলের কাছে সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

যদি হামলার অভিযোগ আরও নিশ্চিত হয় এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়, তাহলে তিগ্রাইয়ে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলে ইতিমধ্যেই সংকটে থাকা এই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *