ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন না তাঁর ছেলে এবং দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত তাঁর এক প্রতিনিধি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জনসমাগমপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি সীমিত রাখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং দেশজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরানজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে শুক্রবার থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। আগামী ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।
এদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা যেন ভুল হিসাব-নিকাশ না করে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে।
