ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান বলেছেন, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের প্রতি বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় এ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন শুহাদা ওসমান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শুহাদা ওসমান বলেন, হালাল এখন শুধু ধর্মীয় প্রয়োজন বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, পর্যটন ও আতিথেয়তা, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং পোশাকসহ বিভিন্ন খাতকে ঘিরে এটি একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। গুণগতমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া ভোক্তার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালাল পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের মতে, এই বিশাল বাজার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—দুই দেশের জন্যই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, শুধু হালাল অর্থনীতির অংশ হওয়া নয়, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার উপযোগী ব্যবসা ও শিল্প কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ কারণেই ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ।
মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কার্যকর হালাল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু সনদ অর্জন যথেষ্ট নয়। সরকারি নীতি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শুহাদা ওসমান বলেন, বড় জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, সক্রিয় বেসরকারি খাত ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে দেশটির হালাল শিল্পে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্পের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সনদ ও মান নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
শুহাদা ওসমান বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবার জন্য শুধু মালয়েশিয়ার বাজার নয়, বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশের সুযোগ খুঁজতে হবে। একইভাবে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশকে শুধু ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার হিসেবে দেখলে চলবে না; বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির জন্য পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবেও বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত।
আগামী ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেসে (মিহাস) বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে, তার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
হাইকমিশনার বলেন, মিহাস ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হালাল ব্যবসা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য সেখানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও পরিবেশক খোঁজা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বোঝা এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগ রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন যোগাযোগ, ধারণা ও অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, হালাল শিল্প দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
