নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নারী ও শিশুসহ একটি পরিবারের ছয় সদস্যের পাঁচজন স্রোতের টানে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের উদ্ধারে নদীতে ঝাঁপ দেন স্থানীয় তরুণ সৌরভ মিয়া। শিশুসহ দুজনকে পাড়ে তুলে দেওয়ার পর অন্য একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।
প্রায় ১৯ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শনিবার সকালে সৌরভ মিয়া ও পরিবারের সদস্য ওবায়দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের ভঙ্গাল এলাকার সৌদিপ্রবাসী ওবায়দুল্লাহ (৩৮)। বেলা দুইটার দিকে পরিবারের ছয় সদস্য শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন।
গোসলের একপর্যায়ে শান্তা আক্তার নদীতে তলিয়ে যেতে থাকলে তাঁকে ধরতে গিয়ে তাঁর বোন শাহীনুর আক্তারও পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকেন। তাঁদের উদ্ধারে ওবায়দুল্লাহ ও শান্ত এগিয়ে গেলে তাঁরাও স্রোতের মধ্যে পড়ে যান।
বিষয়টি দেখে তাঁদের উদ্ধারের জন্য নদীতে ঝাঁপ দেন স্থানীয় তরুণ সৌরভ মিয়া। তিনি শিশুসন্তানসহ শাহীনুর আক্তারকে উদ্ধার করে তীরে তুলে দেন। এরপর অন্য একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে সৌরভ নিজেই পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনও তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন, তবে তখন কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যার আগপর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দলকে নিয়ে আবার অভিযান শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে ডুবুরিরা ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল্লাহর স্বজন শান্তা আক্তার (২৫) ও মো. শান্ত মিয়া (২৪)। শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শুক্রবার উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল। পরে শনিবার সকালে ডুবুরি দলকে নিয়ে অভিযান শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সময় সৌরভের উদ্ধার তৎপরতার কথা জানান বেঁচে যাওয়া শাহীনুর আক্তার। তিনি বলেন, শান্তাকে তলিয়ে যেতে দেখে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। পরে নিজেও ডুবে যাচ্ছিলেন। স্বামী ও ভাগনে তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে যান।
শাহীনুর জানান, সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুসহ তাঁকে তীরে তুলে আনেন। এরপর অন্যদের উদ্ধারের জন্য আবার নদীতে নামেন এবং একপর্যায়ে তিনিও তলিয়ে যান।
উদ্ধার হওয়া দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান।
