প্রায় তিন দশকের দাম্পত্যে টানাপোড়েনের অবসানের ইঙ্গিত; আদালতে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হয়ে আবেদন প্রত্যাহার সংগীতার
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার, ৭ আগস্ট সংগীতা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন। পরে আদালত মামলাটির কার্যক্রম মুলতবি করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টুর একটি পারিবারিক আদালতে বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন সংগীতা। আবেদনে তাঁদের মধ্যকার অমীমাংসিত মতপার্থক্যকে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মামলাটির শুনানি কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ১৫ জুন সংগীতা আদালতকে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করতে চান। সেদিনও তিনি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। এরপর আদালত ৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
এর আগে গত মাসের শুনানিতে বিজয় ও সংগীতা কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে তাঁদের অসুবিধা রয়েছে। আগের কয়েকটি শুনানিতেও তাঁদের অনুপস্থিতি দেখা যায়।
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে সংগীতা তাঁদের দাম্পত্য জীবনের অমীমাংসিত মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থায়ী খোরপোশ দাবি করেন। চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকায় দাম্পত্য জীবনে ব্যবহৃত যৌথ বাড়িতে থাকার অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি।
বিজয় ও সংগীতার দাম্পত্যের বয়স প্রায় তিন দশক। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে তাঁদের আন্তধর্মীয় বিয়ে হয়।
২০০০ সালের ২৬ আগস্ট তাঁদের প্রথম সন্তান, ছেলে, জন্ম নেয়। ২০০৫ সালে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে।
বিজয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসম্মুখের অনুষ্ঠানে সংগীতার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে প্রথম গুঞ্জন ছড়ায়। সে সময় দুজনেই এসব আলোচনা নাকচ করে দিয়েছিলেন।
তবে ২০২৫ সালে টিভিকে আয়োজিত দলের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সংগীতাকে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
ব্যক্তিগত জীবনের এই ঘটনার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-এর কয়েক দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে।
পরে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট), ভিথুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনে সরকার গঠন করে টিভিকে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথমবারের মতো একটি জোট সরকার গঠিত হয়।
