ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ-ভুটান সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি শেষ হয়েছে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১১ জন শিল্পী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবসহ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
১৪ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীনের দেওয়া স্বাগত নৈশভোজের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে ভুটান সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন ১৫ আগস্ট ভুটানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্কৃতি ও জংখা উন্নয়ন বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংস্কৃতিক সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব দ্য পারফর্মিং আর্টসের অধ্যক্ষ স্বাগত বক্তব্য দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মিলনায়তনে দুই দেশের শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের সমাপনী হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডিএন ধুংগেল। ভুটানের সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় অতিথি ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ভুটান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি স্মরণ করেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভুটান।
বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া বেগম বলেন, সংস্কৃতি এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে আরও যৌথ প্রদর্শনী, কর্মশালা এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
