দুই বছর আগে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে প্রাণঘাতী গণবিক্ষোভের মুখে যে বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল কেনিয়া সরকার, সেই ঘটনার পর আবারও একটি বিতর্কিত অর্থনৈতিক ও রাজস্বসংক্রান্ত বিল অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। সরকার বলছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ জরুরি। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, নতুন এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন আর্থিক ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৭৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের দাবি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাজেট ঘাটতি কমানো এবং ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন রাজস্ব উৎস প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
কেনিয়ায় কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে ২০২৪ সালে ব্যাপক ছাত্র-যুব আন্দোলন এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন দেশজুড়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
সেই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তীব্র জনচাপের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত কর বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে নতুন বিল পাস হওয়ার পর অনেকেই অতীতের সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন।
প্রেসিডেন্ট রুটোর প্রশাসনের মতে, দেশের অর্থনীতি টেকসই রাখতে এবং সরকারি সেবার মান বজায় রাখতে রাজস্ব বৃদ্ধি অপরিহার্য। সরকার বলছে, নতুন পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
সরকারি কর্মকর্তারা আরও দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে নতুন রাজস্ব ব্যবস্থা জনগণের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর একটি অংশও মনে করছে, জনমতকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত বিল পাস করায় সামাজিক অসন্তোষ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়লেও স্বল্পমেয়াদে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভোক্তা ব্যয়ের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সংগৃহীত অর্থ যদি অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কার্যকরভাবে ব্যয় করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
নতুন অর্থনৈতিক বিল অনুমোদনের মাধ্যমে কেনিয়া সরকার রাজস্ব সংগ্রহের পথে বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অতীতের গণবিক্ষোভের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা এখনই বলা কঠিন। আগামী মাসগুলোতে জনমত, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বাস্তবায়ন কৌশলই নির্ধারণ করবে বিলটির প্রকৃত প্রভাব।
