২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছেন, বড় টুর্নামেন্টে দলের ব্যর্থতার পুরোনো সমস্যাগুলো আবারও সামনে এসেছে। তবে আগামী বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি।
সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় টমাস টুখেলের দল। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তারা। ৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেসের হেডে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে কেইন বলেন, নির্ধারিত সময়ের বড় একটি অংশ ইংল্যান্ড নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললেও শেষ দিকে তারা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। এতে প্রতিপক্ষ ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ পেয়েছে এবং সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক মনে করেন, এক গোলে এগিয়ে থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই দল কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। তবে ম্যাচে তখনও উল্লেখযোগ্য সময় বাকি ছিল, ফলে প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিলে তার মূল্য দিতেই হয়।
তিনি বলেন, ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে দলের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা।
কেইনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ইউরো ২০২১-এর ফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে খেললেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় কেইনের বয়স হবে ৩৬ বছর। তবে তিনি জানিয়েছেন, এখনই অবসর বা শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার সময় নয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে নিজের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান ও আনন্দের জায়গা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে লিওনেল মেসির কথা তুলে ধরে কেইন বলেন, বয়স কোনো খেলোয়াড়ের সামর্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। সঠিক সময় এলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ড্যান বার্নও পরাজয়ের কারণ হিসেবে শেষ দিকে দলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাকে দায়ী করেছেন। তার মতে, ম্যাচের অধিকাংশ সময় পরিকল্পনা সফল থাকলেও গোল করার পর দল অনেকটা পিছিয়ে যায় এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা ছেড়ে দেয়।
সেমিফাইনালে লিড নেওয়ার পর কোচ টমাস টুখেল একাধিক পরিবর্তন এনে পাঁচ ডিফেন্ডারের কৌশলে চলে যান। এরপরই আর্জেন্টিনা বলের দখল ও আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ম্যাচে ফিরে আসে।
বার্ন বলেন, প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সুযোগ দিলে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাবেই। বিশ্বকাপের ফাইনালের এত কাছে গিয়ে এভাবে বিদায় নেওয়া দলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং কষ্টদায়ক।
নাটকীয় এই পরাজয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই জোর দিয়ে বলেছেন দলটির খেলোয়াড়রা।
