রাজশাহীর মোহনপুরে এক নারীর সঙ্গে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফার কথিত আপত্তিকর অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে দেখা যায়। ভিডিও ধারণকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে কিছু বলতে শোনা যায়। পরে ক্যামেরা পুরুষ ব্যক্তির দিকে তাক করা হলে তিনি চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন এবং ভিডিও ধারণকারীদের কাছে সহায়তা চান। ভিডিওতে নিজের নাম ‘গোলাম মোস্তফা’ বলতেও শোনা যায়।
তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি গোলাম মোস্তফা মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে রয়েছেন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পান। তাঁর অবসরে যেতে আরও প্রায় পাঁচ বছর বাকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ও পরবর্তী সময়ে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই বিয়ের প্রায় তিন মাস পর বিচ্ছেদ হয় এবং এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জন পাস করলেও ২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন কর্মচারী।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। তিনি দাবি করেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসারুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁরা বিভিন্নজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। তবে ঘটনা সত্য হলে সাময়িক বরখাস্তসহ বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, এটি গুরুতর অভিযোগ। তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
