ইরান হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা আসতে পারে। নতুন ওই অঞ্চলে কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই।
মহসেন রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকে নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি শুরু হবে। অঞ্চলটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত থাকবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি আন্তর্জাতিক করিডরও নির্ধারণ করা হয়েছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করিডরটি ঠিক করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে মহসেন রেজাই বলেন, নতুন করিডরটি ইরান পরিচালনা করবে। ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এটি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’-এ কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মহসেন রেজাই। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব পড়েছে এবং দাম বেড়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
